সমুদ্রের তলদেশে AI রেভোলিউশন: অফশোর উইন্ড ফার্মে নতুন ইতিহাস।
![]() |
| image from Internet |
বিশ্বের প্রথম AI-চালিত স্বয়ংক্রিয় পানির নিচের যান দিয়ে অফশোর উইন্ড ফার্ম পরিদর্শন করেছে "বিম"(Beam)
বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত স্বয়ংক্রিয় পানির নিচের যান (Autonomous Underwater Vehicle - AUV) সফলভাবে ব্যবহার করেছে ‘বিম’। স্কটল্যান্ডের বৃহত্তম অফশোর উইন্ড ফার্ম, সিগ্রীনে এই যানটি সফলভাবে জ্যাকেট স্ট্রাকচারের পরিদর্শন করেছে। SSE Renewables, TotalEnergies, এবং PTTEP এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই উইন্ড ফার্মে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে।
বিমের AI-চালিত এই যানটি সামুদ্রিক প্রযুক্তিতে যুগান্তকারী এক উদ্ভাবন। মানব হস্তক্ষেপ ছাড়াই এটি জটিল পানির নিচের পরিদর্শন সম্পন্ন করতে পারে। এতে করে শুধু সময়ই সাশ্রয় হয় না, অপারেশনাল ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।
নতুন প্রযুক্তির সম্ভাবনা:
যেখানে আগের দিনে অফশোর উইন্ড ফার্মের পরিদর্শন ছিল অনেকটাই ম্যানুয়াল এবং শ্রমসাপেক্ষ, সেখানে বিমের স্বয়ংক্রিয় সমাধান কার্যপ্রণালীতে এক নতুন অধ্যায় যোগ করেছে। ডেটা সরাসরি তীরবর্তী স্থানে পাঠানোর সুবিধার পাশাপাশি, এই যানটি পরিদর্শন কর্মীদের কম ঝুঁকিপূর্ণ এবং আরও জটিল কাজের দিকে মনোযোগ দিতে সুযোগ করে দেয়। ফলে ৫০% পর্যন্ত সময় কমিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে এবং অপারেশনাল ব্যয়ও কমছে।
বিমের সিইও ব্রায়ান অ্যালেন বলেন, "AI-চালিত এই স্বয়ংক্রিয় যানটি অফশোর উইন্ড ফার্ম পরিদর্শন এবং রক্ষণাবেক্ষণে এক বিপ্লব ঘটাতে পারে, যা সময় ও খরচ উভয়ই কমাতে সক্ষম হবে।"
নিরাপত্তা এবং কার্যকারিতার নতুন মানদণ্ড:
AI-চালিত প্রযুক্তিটি শুধু কর্মদক্ষতাই বাড়াচ্ছে না, বরং পরিদর্শনের সময় সংগৃহীত ডেটার মান উন্নত করছে। এতে ৩ডি রিকনস্ট্রাকশনের পাশাপাশি উচ্চ মানের ভিজ্যুয়াল ডেটা তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। ভবিষ্যতে, ২০২৫ ও ২০২৬ সালের মধ্যে বিম তাদের পুরো জাহাজ এবং রোবটিক যানবাহনে এই প্রযুক্তি প্রয়োগের পরিকল্পনা করছে।
SSE Renewables-এর টেকনিক্যাল অ্যাসেট ম্যানেজার ম্যাথিউ হেন্ডারসন বলেন, "আমাদের নীতিমালা হলো, 'যদি নিরাপদ না হয়, আমরা তা করি না।' বিমের স্বয়ংক্রিয় পরিদর্শন প্রযুক্তি আমাদের কর্মী কমিয়ে আনতে সাহায্য করছে এবং সম্পদ নির্ভরযোগ্যতার জন্য উচ্চমানের ডেটা সংগ্রহ করছে।"
ভবিষ্যতের দিকে দৃষ্টি:
বিমের এই AI-চালিত যানটি অফশোর উইন্ড ফার্মের জটিল কাঠামোতে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে তা সমাধানে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। সিগ্রীন উইন্ড ফার্মে এই প্রযুক্তির সফল প্রয়োগ দেখিয়েছে, কীভাবে ভবিষ্যতে আরও উন্নত এবং দক্ষ সমাধান প্রদান করা যাবে।
এই ধরনের উদ্ভাবনী প্রযুক্তি শুধু অফশোর উইন্ড ফার্মগুলির জন্যই নয়, বরং সমগ্র সামুদ্রিক শিল্পকে একটি নতুন মানদণ্ডে পৌঁছে দিতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগ কেবল নিরাপত্তা ও দক্ষতার মান বাড়াচ্ছে না, বরং খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবর্তনের পথে এক বড় পদক্ষেপ।
