টিন অ্যাকাউন্ট ফিচার: ইনস্টাগ্রামের নতুন উদ্যোগে শিশুদের সুরক্ষা।

 টিন অ্যাকাউন্ট ফিচার: ইনস্টাগ্রামের নতুন উদ্যোগে শিশুদের সুরক্ষা।



              ইনস্টাগ্রাম শিশুদের অনলাইন সুরক্ষায় নতুন পদক্ষেপ নিয়ে এসেছে, যা অনেকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো শিশুদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে সমালোচনার মুখে পড়েছে, আর এর জবাবে ইনস্টাগ্রাম নতুন কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে এসেছে।


কেন এই পরিবর্তনগুলো দরকার?


             ইন্টারনেটে দিন দিন শিশুদের উপস্থিতি বাড়ছে, কিন্তু এর সাথে সাথে তাদের জন্য ঝুঁকিও বাড়ছে। অল্প বয়সী ব্যবহারকারীরা অনলাইনে নানা ধরনের নেতিবাচক কন্টেন্ট, সাইবার বুলিং, এবং নিরাপত্তাজনিত অন্যান্য সমস্যার মুখোমুখি হয়। এই ঝুঁকিগুলো মোকাবিলার জন্য ইনস্টাগ্রাম এই নতুন গোপনীয়তা সেটিংস নিয়ে এসেছে, বিশেষত কিশোর-কিশোরীদের জন্য।


টিন অ্যাকাউন্ট: নতুন যুগের নতুন নিরাপত্তা


              ইনস্টাগ্রাম নতুন করে ১৮ বছরের নিচের ব্যবহারকারীদের জন্য ‘টিন অ্যাকাউন্ট’ চালু করেছে। এই অ্যাকাউন্টগুলোতে প্রাইভেসি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে। টিন অ্যাকাউন্ট চালু হওয়ার ফলে ব্যবহারকারীরা যারা ফলো করছেন, শুধু তারাই মেসেজ করতে পারবে। এর ফলে, অপরিচিত বা অবাঞ্ছিত ব্যক্তিরা সরাসরি মেসেজ করতে পারবে না।


              এছাড়াও, রাত ১০ টা থেকে সকাল ৭ টা পর্যন্ত অ্যাপটি ‘স্লিপ মোডে’ থাকবে। এটি কিশোর-কিশোরীদের নিয়মিত ঘুম নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে, যা প্রয়োজনীয় সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একই সাথে, ইনস্টাগ্রাম সেনসেটিভ কন্টেন্ট দেখার ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ স্তরের সীমাবদ্ধতা প্রয়োগ করছে।


পিতামাতার জন্য নতুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা


               পিতামাতারা প্রায়ই দুশ্চিন্তায় থাকেন যে তাদের সন্তানরা অনলাইনে কী করছে। ইনস্টাগ্রামের নতুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তাদের এই উদ্বেগ দূর করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এখন পিতামাতারা তাদের সন্তানদের মেসেজের ওপর নজর রাখতে পারবেন, যদিও তারা সরাসরি মেসেজের বিষয়বস্তু দেখতে পারবেন না।


               এর পাশাপাশি, ১৬ বছরের নিচে শিশুদের জন্য পিতামাতার অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ১৬ বা ১৭ বছর বয়সী ব্যবহারকারীরা নিজেদের প্রাইভেসি সেটিংস পরিবর্তন করতে পারবে, তবে ১৬ বছরের নিচের ক্ষেত্রে এটি সম্ভব হবে না।


বয়সের জালিয়াতি এড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা


                 কিছু ব্যবহারকারী হয়তো নিজেদের বয়স পরিবর্তন করে এই নতুন নিয়মগুলো এড়ানোর চেষ্টা করতে পারে। ইনস্টাগ্রাম এটি মোকাবিলা করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করছে, যাতে তারা সেইসব কিশোরদের শনাক্ত করতে পারে যারা এই পরিবর্তনগুলো এড়িয়ে যেতে চায়।


এটি কতটা কার্যকর হবে?


                  এই নতুন পরিবর্তনগুলো ইনস্টাগ্রামের সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি আজকের দিনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোরও তাদের ভূমিকা পালন করা উচিত। ইনস্টাগ্রামের এই পদক্ষেপগুলো শিশুদের অনলাইন ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করবে, যা ভবিষ্যতে একটি নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ তৈরির পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



Post a Comment

Previous Post Next Post