টেলিগ্রামের তথ্য হস্তান্তর: ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা কী ঝুঁকিতে?

 টেলিগ্রামের তথ্য হস্তান্তর: ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা কী ঝুঁকিতে?


        টেলিগ্রাম, জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ, সম্প্রতি তাদের ব্যবহারকারীদের আইপি ঠিকানা এবং ফোন নম্বর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যদি তাদের কাছে বৈধ আইনি অনুরোধ থাকে। টেলিগ্রামের CEO পাভেল দুরভের মতে, এই পরিবর্তন অপরাধীদের কার্যকলাপ কমাতে সহায়ক হবে।


      তিনি বলেন, “যদিও টেলিগ্রামের ৯৯.৯৯৯% ব্যবহারকারীর অপরাধের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই, তবুও ০.০০১% যারা অবৈধ কার্যকলাপে জড়িত, তারা পুরো প্ল্যাটফর্মের জন্য একটি নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করছে।” দুরভের এই মন্তব্যগুলি তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযোগের প্রেক্ষিতে এসেছে, যেখানে তাকে শিশু নিপীড়ন এবং মাদক পাচারের মতো অপরাধে জড়িত করা হয়েছে।


      সম্প্রতি ইউক্রেন সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত ডিভাইসে টেলিগ্রাম নিষিদ্ধ করেছে, যা রাশিয়ার হুমকির বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাড়ানোর প্রয়াস। এই পরিস্থিতির মধ্যে, টেলিগ্রামের নীতি পরিবর্তন অনেক ব্যবহারকারীকে উদ্বিগ্ন করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেলিগ্রামের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অন্যান্য সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের তুলনায় দুর্বল, যা সন্ত্রাসী ও অবৈধ বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণে একটি চ্যালেঞ্জ।


      দুরভ জানিয়েছেন, টেলিগ্রাম এখন একটি বিশেষজ্ঞ দল গঠন করেছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সমস্যা তৈরি করা বিষয়বস্তু লুকানোর চেষ্টা করছে। তবে, এটি যথেষ্ট হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধ বিষয়বস্তু সনাক্ত করা হলে তা সম্পূর্ণরূপে মুছে ফেলা উচিত এবং কিছু দেশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো প্রয়োজন।


     এই পরিবর্তনগুলো টেলিগ্রামের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতার প্রশ্ন তোলেছে, বিশেষ করে যখন ব্যবহারকারীরা দমনমূলক শাসনের বিরুদ্ধে নিরাপদ স্থান খুঁজছে। এখন দেখার বিষয় হল, এই নীতিগত পরিবর্তন টেলিগ্রামের ভবিষ্যতের উপর কেমন প্রভাব ফেলে।







Post a Comment

Previous Post Next Post