মেটার বিরুদ্ধে ৯১ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা করেছে (ইউরোপীয় ইউনিয়ন) ইইউ।
সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রাইভেসি নিয়ন্ত্রক মেটা (সাবেক ফেসবুক) কে ৯১ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১০১.৫ মিলিয়ন ডলার বা বাংলাদেশি প্রায় ১০৫৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা।) জরিমানা করেছে। এই জরিমানা করার মূল কারণ হলো, ব্যবহারকারীদের পাসওয়ার্ড সুরক্ষার ক্ষেত্রে মেটার ব্যর্থতা।
২০১৯ সালে মেটা আয়ারল্যান্ডের ডেটা প্রটেকশন কমিশন (DPC) কে জানায় যে, তাদের কিছু ব্যবহারকারীর পাসওয়ার্ড সিস্টেমে 'plaintext' আকারে সংরক্ষিত ছিল। এর অর্থ হলো, সেগুলো এনক্রিপশন বা কোনো সুরক্ষাব্যবস্থা ছাড়াই রাখা হয়েছিল। মেটা তখনই বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছিল এবং কমিশন জানায়, এই পাসওয়ার্ডগুলো বাইরের কারো হাতে পড়েনি।
কেন এই পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ বিপজ্জনক?
আয়ারল্যান্ডের ডেপুটি কমিশনার গ্রাহাম ডয়েল বলেন, "ব্যবহারকারীদের পাসওয়ার্ড কখনোই plaintext আকারে রাখা উচিত নয়, কারণ এতে সেগুলো চুরি বা অপব্যবহারের ঝুঁকিতে পড়ে।"
ইইউ-এর সাধারণ ডেটা সুরক্ষা নীতি (GDPR) অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। মেটার এই ভুলের কারণে প্রতিষ্ঠানটি আইন লঙ্ঘন করেছে বলে প্রমাণিত হয়েছে।
মেটার আগের জরিমানার রেকর্ড:
এই প্রথমবার নয়, মেটাকে এর আগেও GDPR আইন লঙ্ঘনের জন্য জরিমানা করা হয়েছে। ২০১৮ সালে এই আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে মেটাকে প্রায় ২.৫ বিলিয়ন ইউরো জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে রেকর্ড ১.২ বিলিয়ন ইউরো জরিমানা করা হয়, যা মেটা আপিল করছে।
ব্যবহারকারীদের সতর্ক হওয়ার বার্তা:
ডেটা সুরক্ষার গুরুত্ব বাড়ানোর জন্য এই ধরনের ঘটনা বড় শিক্ষা। আমাদের সকলেরই উচিত পাসওয়ার্ড ব্যবহারে আরও সচেতন হওয়া এবং নিরাপদ পদ্ধতি অনুসরণ করা।
প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের সিস্টেমের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে হবে, যেন ব্যবহারকারীদের তথ্য ভবিষ্যতে নিরাপদ থাকে।
