সোশ্যাল মিডিয়ার নজরদারি নিয়ে বড় প্রশ্ন: আপনার তথ্য কতটা সুরক্ষিত?
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন (FTC) সম্প্রতি একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে যেখানে জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া এবং ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোর ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। বিশেষ করে শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের জন্য এটি সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি করছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রায় ১০০ পৃষ্ঠার এই রিপোর্টে দেখানো হয়েছে, কীভাবে এই কোম্পানিগুলো ব্যবহারকারীদের তথ্য সংগ্রহ করে এবং সেটি বিজ্ঞাপন বিক্রির জন্য ব্যবহার করে। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে যে, ব্যবহারকারীরা আসলে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা পরিচালিত সিস্টেমে ব্যবহার হচ্ছে তার উপর কোনো বাস্তব নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে না।
FTC-এর চেয়ারপার্সন লিনা খান বলেন, “যদিও এটি কোম্পানিগুলোর জন্য লাভজনক, এই নজরদারির পদ্ধতিগুলো মানুষের গোপনীয়তা লঙ্ঘন করতে পারে, তাদের স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে এবং ব্যক্তিগত চুরি থেকে শুরু করে হুমকি পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষতির মুখোমুখি করতে পারে।”
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, কোম্পানিগুলোকে তাদের ডেটা সংগ্রহ এবং রেকমেন্ডেশন সিস্টেমের ক্ষেত্রে গোপনীয়তার বিষয়টি অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য আরো উদ্যোগ নেওয়া উচিত। পাশাপাশি, পিতামাতার জন্য আরও নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে শিশুদের অনলাইন সুরক্ষার জন্য কিছু নতুন আইন প্রস্তাবিত হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে কিডস অনলাইন সেফটি অ্যাক্ট (KOSA) এবং চিলড্রেনস অনলাইন প্রাইভেসি প্রোটেকশন অ্যাক্ট (COPPA) 2.0। এসব আইনের মাধ্যমে শিশুদের সুরক্ষা আরও জোরদার করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
FTC বলেছে, "COPPA-এর নিয়মগুলো প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে থাকা উচিত, তবে এটি সর্বোচ্চ সীমা নয়।"
রিপোর্টটি প্রকাশের পর থেকে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানির পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে। ডিসকর্ড(Discord)-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রিপোর্টটি বিভিন্ন মডেলগুলোকে একই সাথে তুলে ধরেছে, যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করতে পারে। অন্যদিকে, গুগলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি করে না এবং ১৮ বছরের নিচের ব্যবহারকারীদের জন্য বিজ্ঞাপন ব্যক্তিগতকরণের অনুমতি দেয় না।
তবে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, কোম্পানিগুলো শিশুদের গোপনীয়তা যথাযথভাবে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং কিশোরদের অ্যাকাউন্ট প্রায় প্রাপ্তবয়স্কদের মতোই ব্যবহৃত হয়েছে, যা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
এফটিসি-এর রিপোর্ট থেকে স্পষ্ট যে, শিশু এবং কিশোরদের অনলাইন গোপনীয়তা রক্ষায় আরও কঠোর নজরদারিতা, আইন এবং সুরক্ষা প্রয়োজন।
